back to top

নির্দেশনা অমান্যে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রশ্নের মুখে

৭টার পরও খোলা মার্কেট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৫০
[photo_card_and_fontsize]

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম নগরে তা মানা হচ্ছে না। বরং আগের মতোই রাত আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত স্বাভাবিক বেচাকেনা চলছে।কোথাও কোথাও দোকান মালিক সমিতির স্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলেও অভিযোগ করেন কর্মচারীরা। একই সঙ্গে বন্ধের কঠোরতা নিয়ে কোনো প্রকার সচেতনতা ছিল না সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও। মাইকিং করে দায়িত্ব সেরেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল নগরীর আগ্রাবাদ, নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পরেও বেশির ভাগ দোকান খোলা রয়েছে। অনেক মার্কেটে ক্রেতা উপস্থিতি কম থাকলেও আলো জ্বালিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ী ও বিক্রয়কর্মীরা। যেসব দোকানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) রয়েছে, সেগুলোও চালু রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলেও জেনারেটর ব্যবহার করে আলো ও এসি সচল রাখা হচ্ছে। এমনকি কিছু মার্কেটের লিফটও নিয়মিত চালু রয়েছে।

মার্কেটের বাইরে ফুটপাতে বসা ভাসমান হকারদের দোকানেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও লাইট জ্বালিয়ে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই যে দেশে জ্বালানি সংকট চলছে।

এদিকে দিনভর লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটে চাপের মুখে রয়েছে শিল্প-কারখানাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, লোডশেডিং মারাত্মকভাবে বেড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব বাজারেও পড়বে।

নির্দেশনা না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে রিয়াজউদ্দিন বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুকুর বলেন, আমাদের মার্কেটগুলো মূলত সন্ধ্যার পরই জমে ওঠে। অফিস সময়ে তেমন ক্রেতা থাকে না। তাই আমরা প্রশাসনের কাছে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা আমরা ব্যবসায়ীদের জানিয়েছি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে মাইকিংও করা হয়েছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী সুযোগ পেলেই দোকান খোলা রাখছেন। অন্যদিকে হকাররা রাত ১২টা পর্যন্ত লাইট জ্বালিয়ে ব্যবসা করছেন। তারা কীভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছে, সেটিও একটি প্রশ্ন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রাম পশ্চিমাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম মামুনুল বাঁশরী বলেন, সরকারের নির্দেশনা মাইকিং করে জানানো হয়েছে। আমরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দোকান বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছি। কিন্তু অনেকেই তা মানছেন না। এখন আবার মার্কেটগুলোতে গিয়ে তদারকি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা প্রচার থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসনও। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে মাইকিং করেছি। কিছু কিছু মার্কেট আলোকসজ্জা কমালেও অনেকেই এখনো নির্দেশনা মানছেন না। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।