মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান করতে চাইছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি ব্যর্থ হয়, তবে অতিরিক্ত হামলা বা স্থল অভিযানের পরিকল্পনাও তাঁরা বিবেচনা করছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নতুন দলে প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য রয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং অন্য যুদ্ধজাহাজগুলোতে মোতায়েন আছেন। এ ছাড়া এপ্রিলের শেষে আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সেনার ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাঁরা ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যোগ দেবেন।
আগামী ২২ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। এর ঠিক আগমুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সমরাস্ত্রের সমাবেশ ঘটাতে যাচ্ছে আমেরিকা।
এমন একসময় এই তথ্য সামনে এল, যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আমেরিকার নৌ-অবরোধ চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য থমকে যাওয়া আলোচনা আবারও শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে আছে।
অবসরপ্রাপ্ত নেভি অ্যাডমিরাল জেমস ফগো জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ পৌঁছালে ইরানের ওপর চাপ বাড়বে। দ্বিতীয় দফা আলোচনা ব্যর্থ হলে পেন্টাগন সামরিক পদক্ষেপের আরও বিকল্প পাবে। এই সাবেক সেনাসদস্যের ভাষায়, এটি রিজার্ভ সক্ষমতা, যা পরিস্থিতি খারাপ হলে ব্যবহার করা হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার সব পথই খোলা রেখেছেন।’
অবশ্য এ বিষয়ে পেন্টাগন বা সেন্ট্রাল কমান্ড কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বর্তমানে ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন রেখেছে আমেরিকা। এর প্রতিটিতে কয়েক ডজন করে যুদ্ধবিমান আছে। এগুলো হলো—ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
সাবেক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানকে সমর্থনকারী সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর ওপর নজর রাখছে। নেভি সিল, মেরিন কোর বা কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষিত দলগুলো যেকোনো জাহাজ জব্দ করতে প্রস্তুত।
অবরোধের পাশাপাশি ইরানি ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রেখেছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। পারস্য উপসাগরের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তাঁরা।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ–এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিক মুলরয় অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর ফলে প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
অবশ্য তিনি আশা করেছেন, দুই পক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে যাতে বড় ধরনের রক্তক্ষয় এড়ানো সম্ভব হয়।
