back to top

চট্টগ্রামে লিফটের গর্তে ফেলে কলেজ ছাত্রকে হত্যা

কিশোর গ্যাং লিড়ারসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩৭
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রাম নগরীতে নির্মাণাধীন ভবনের আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে এক কলেজ ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার চকবাজার থানায় মামলা করেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক কিশোর গ্যাং লিড়ারসহ চারজকে গ্রেপ্তার করেছেন।

নিহতের নাম আশফাক কবির সাজিদ (১৭)। তিনি নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তিনি বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকতো।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনার আবেদন করা হয়েছে আদালতে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আইমন (২৪), এনায়েত উল্লাহ (৪৭), মিশকাতুল কায়েস (১৯) ও ভবনের প্রহরী এনামুল হক (৫৫)। তাদের মধ্যে এনায়েত উল্লাহ কিশোর গ্যাং লিডার বলে পুলিশের ভাষ্য।

চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ বলেন, দুই দল কিশোরের পূর্ব বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে কী নিয়ে বিরোধ এবং আর কারা এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ওসি বলেন, নিহত কিশোর সাজিদকে অপর এক দল কিশোর ও যুবক ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় তুলে মারধর করছিলেন। এ সময় সে সেখান থেকে নেমে দৌড়ে পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের আট তলায় উঠে পড়ে। তাকে মারধরকারীরাও পেছন পেছন দৌড়ে সেখানে উঠে যায় এবং তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে সে নির্মাণাধীন ভবনটির লিফটের গর্তে পড়ে যায়।

ওসি বাবুল আজাদ বলেন, গ্রেপ্তার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে।সে উঠতি বয়সি কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে এবং সহযোগিতা করে। আসামিরা নিহত সাজিদকে ধারলো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেছে। হঠাৎ করে কেন তারা তাকে ধাওয়া করেছে, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, রানা, মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আশফাককে জোর করে নিয়ে যান।

একপর্যায়ে ওই তরুণদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক কৌশলে কাছের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেয়। এবং দৌড়ে আটতলায় উঠে যায়; কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে হামলাকারীরা ওপরতলায় উঠে আশফাককে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আশফাকের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটি দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।