back to top

সমুদ্র-কাপ্তাই হ্রদ দুই উৎস বন্ধ, চট্টগ্রামে চড়া মাছের বাজার

কেজিতে ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:৫৭
[photo_card_and_fontsize]

প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রামের বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। প্রায় সব ধরনের মাছের কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে গত শুক্রবার থেকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে তিন মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।

মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নির্বিঘœ রাখতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখা হয়। এ বছরও সেই ধারাবাহিকতায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এতে গভীর সমুদ্রে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সামুদ্রিক মাছের জোগান কমে গেছে। চট্টগ্রামের প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে গত শুক্রবার থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা চলবে টানা তিন মাস। দেশের অন্যতম বড় মিঠাপানির মাছের উৎস এই হ্রদ থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রামের বাজারে বিপুল পরিমাণ মাছ সরবরাহ হতো। এখন সেই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান আরও কমে গেছে। ফলে একসঙ্গে দুই বড় উৎস বন্ধ থাকায় বাজারে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক চাপ।

গতকাল নগরীর কাজীর দেউড়ি, বহদ্দারহাট, কর্ণফুলী ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি মাছের দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাজীর দেউড়ি বাজারে আগে ৭০০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাল কোরাল এখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কালো চান্দা ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫০ টাকা। ছোট রূপচাঁদা ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০০ টাকা এবং বড় সাইজের রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। মাঝারি বাগদা চিংড়ি কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৯০০ টাকা এবং বড় চিংড়ি ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুরমা ও তাইল্লা মাছের দামও কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে পুকুর ও নদীর মাছের বাজারেও। বাজারে রুই ও কাতলা মানভেদে ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নদীর মাছের মধ্যে টেংরা ৮৫০ টাকা, বাইলা ৭৫০ টাকা এবং আইড় মাছ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাটা ৬০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ টাকা, কাজলী ৮০০ টাকা, গুইল্লা ৯০০ টাকা, ছোট মোলা মাছ ৫০০ টাকা এবং শিং মাছ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

আগ্রাবাদের মাছ বিক্রেতা আক্কাস আলী বলেন, সমুদ্র থেকে মাছ আসছে না, আবার কাপ্তাইয়ের মাছও বন্ধ। তাই কম দামে মাছ কেনার সুযোগ নেই। বেশি দামে কিনে আবার বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কাজীর দেউড়ি বাজারে মাছ কিনতে আসা রোকেয়া খাতুন বলেন, কিছুদিন আগেও যে মাছ ৬০০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটি ৭৫০ টাকা চাচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রের মাছের দাম অনেক বেশি হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে গেছে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে চাহিদা থাকলেও অনেক ক্রেতা বেশি দামের কারণে মাছ কিনতে পারছেন না। এতে ব্যবসায়ীরা দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন।

বহদ্দারহাটের মাছ ব্যবসায়ী রমজান হোসেন বলেন, আগে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি হতো। এখন তা নেমে এসেছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। সাতজন কর্মচারীর বেতন আর দোকান ভাড়া দিয়ে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।