দুই খালের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সুফল। কাগজে-কলমে অধিকাংশ কাজ শেষের পথে থাকলেও বাস্তবে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে বন্দরনগরীর নিম্নাঞ্চল, ভোগান্তিতে পড়ছেন লাখো মানুষ।
বন্দরনগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। গত এক দশকে এসব প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যার অধিকাংশই ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে। তবুও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। পানিবন্দী হয়ে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি জমে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ৩৬টি খালের মধ্যে ২৬টির কাজ শতভাগ এবং আরও ৭টির ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও রামপুর খালের কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় পুরো প্রকল্পের সুফল মিলছে না।
বর্তমানে হিজড়া খালের কাজের অগ্রগতি ৩৫ শতাংশ, জামালখান খালের ৫৮ শতাংশ এবং রামপুর খালের ৭৫ শতাংশ। সিডিএ দাবি করছে, প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ৯৬ শতাংশ হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই খালগুলোর অসম্পূর্ণতা জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলছে।
২০১৭ সালের ৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা এবং মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা এবং মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। অথচ প্রকল্পের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি।
মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে হিজড়া খালসংলগ্ন প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, তেলেরপট্টি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ও শুলকবহরসহ বিভিন্ন স্থানে কোমরসমান পানি জমে। একইভাবে জামালখান খালসংলগ্ন হেমসেন লেইন, শরীফ কলোনি, রহমতগঞ্জসহ আশপাশের এলাকাও প্লাবিত হয়।
এতে সড়কের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিসপাড়া ও দোকানপাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। মাত্র আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য একপ্রকার দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, হিজড়া খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খাল পুনরুদ্ধার ও নালা নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ প্রয়োজন। সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তির একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কাজ শেষ হলে নগরবাসী এর সুফল ভোগ করবে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে খাল সংস্কারকাজ চলমান। ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে সাময়িক জলাবদ্ধতা।
তিনি বলেন, এই দুর্ভোগ সাময়িক। কাজগুলো শেষ হলে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে এবং জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মেয়র আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৫ মের মধ্যে সিডিএর খাল সংস্কারকাজ শেষ হবে। তখন নগরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
