চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। তাদের দাবি, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের বাধা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম আদালত ভবনের আইনজীবী সমিতি ভবনের বার লাইব্রেরির প্রবেশমুখে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিকেল তিনটায় আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা ফরম নিতে গেলে বাধা দেয় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটে। বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের দাবি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দল-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

আগামী ২১ মে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয় বার লাইব্রেরি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আওয়ামীপন্থীরা ফরম সংগ্রহ করতে না পারলেও বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও জামায়াতপন্থী বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। ২১টি পদের মধ্যে বিএনপি ২১টি ফরম ও জামায়াতপন্থীরা ২০টি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা তিনটার দিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী ফরম নিতে গেলে বার লাইব্রেরির মুখে তাদের বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বাধা দেন। হট্টগোলের একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা বার লাইব্রেরির দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় বিএনপিপন্থীরা লাইব্রেরির ভেতরে ও আওয়ামীপন্থীরা বাইরে অবস্থান করে। সেখানে তারা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন।

আওয়ামীপন্থী আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জিয়া উদ্দিন বলেন, মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমার জন্য দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনার। আমরা ফরম সংগ্রহ করতে গেলে বিএনপিপন্থীরা বাধা দেয়। আমাদের দুই একজনকে সদস্যকে তারা মারধরও করে। মূলত তারা নির্বাচনে হারার ভয়ে নির্বাচনে আমাদের অংশ নিতে দিচ্ছে না। এই ধরনের অবৈধ ও ভাগাভাগির নির্বাচন চট্টগ্রাম বারের ইতিহাসে হয়নি।
আওয়ামী লীগ-সমর্থক প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদ বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের বার লাইব্রেরিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এতে তাঁরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি দাবি করেন তাঁরা সাধারণ আইনজীবী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী তারিক আহমদ বলেন, বহিরাগত ক্যাডার নিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রাম বারে উত্তেজনা সৃষ্টি করেত আসছিল। সাধারণ আইনজীবীরা তাদের বাধা দিয়েছে। আর রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দল-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে তাদের সুযোগ নেই।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, যাদের হাতে ছাত্র হত্যার খুনের দাগ লেগে আছে, তারা আজ চট্টগ্রাম বারকে অস্থীতিশীল করতে চেয়েছিল। খুনীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টরালেন্স।
জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রওশন আরা বলেন, যারা মনোনয়ন ফরম নিতে আসছিল, সবাইকে ফরম দেওয়া হয়েছে। কোনো পক্ষ যদি ফরম নিতে না আসে আমাদের কি করার আছে? আজকে (সোমবার) ফরম সংগ্রহ ও জমার শেষ দিন ছিল। ২১ পদে মোট ৪২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। আশা করছি আগামী ২১ মে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় ২১টি পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের সবাইকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদ পেয়েছিলেন বিএনপিপন্থি দুই আইনজীবী। সেবার মোট ১৪টি পদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আর একটি সহ-সভাপতি পদ ও দুটি সম্পাদকীয় পদসহ মোট সাতটি পদ পেয়েছিলেন জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা। গত বছরও সমিতির নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা ও সংগ্রহের দিন বিএনপি-জামায়াতপন্থি ছাড়া অন্যদের ফরম নিতে দেওয়া হয়নি।
