চট্টগ্রামে মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির প্রধান মুনিরুল্লাহ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা ও জবরদখল অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। আজ সোমবার নগরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তারা। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদেক।
তিনি বলেন, নিজেদের অরাজনৈতিক ও তরিকতভিত্তিক সংগঠন দাবি করলেও বাস্তবে মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটি ভূমি দখল, মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। রাউজানের কাগতিয়া এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ মুনিরুল্লাহর নির্দেশে তার অনুসারীরা কাগতিয়া মাইজপাড়া তালীমুল কুরআন মাদ্রাসা দারুল ইয়াতামা দখল করে নেয়। এ বিষয়ে থানা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও ডিবিতে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত কয়েক বছরে সংগঠনটি কাগতিয়া এলাকায় ৩৪৯ শতক নাল ফসলি জমি ও পাঁচটি পুকুর ভরাট করেছে। এর মধ্যে মাইজপাড়া মসজিদ পুকুর, মজিদা পুকুর, আলি মিয়া ডাক্তার বাড়ির পেছনের পুকুর এবং একটি এজমালী পুকুর রয়েছে। প্রাচীন মজিদা পুকুর রাতারাতি ভরাট করে মাঠে পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুছার স্মৃতিস্তম্ভ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা এবং শহীদ কবি শওকত হাফেজ খান রুমির স্মৃতিবিজড়িত তোরণ ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
আবদুল্লাহ আল সাদেক বলেন, গত ৯ এপ্রিল রাতে নগরের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকায় তার বাসায় হামলা চালায় মুনিরুল্লাহর অনুসারীরা। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করার পর মুখোশধারীরা বাসায় ঢুকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে এবং পরিবারের নারীদের হেনস্তা করে। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল থানায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বসতভিটা বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তার প্রবাসী বড় ভাইকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে, যদিও তিনি ঘটনার সময় বিদেশে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাদেক দাবি করেন, মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির মহাসচিব ও দুই সহ-সভাপতি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। সংগঠনটি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাউজান থেকে পাহাড়ি মাটি এনে পুকুর, খাল ও নাল জমি ভরাট করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগের পর এক দফায় ৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৪০ টাকা জরিমানাও আদায় করেছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখলকৃত জমি, মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠান ফেরত দেওয়া এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাবের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
