back to top

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে তিন সার কারখানার দুটিই বন্ধ

সার উৎপাদনে ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬ ০৪:২৩
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামে তিনটি বড় সার কারখানার মধ্যে একটি উৎপাদনে ফিরলেও বাকি দুটি এখনো বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সংকট ও কাঁচামালের ঘাটতির কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারখানা তিনটি আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়ায় অবস্থিত।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) গত ১ মে থেকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ৩ মে থেকে পুনরায় উৎপাদন শুরু করেছে। বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হচ্ছে। এর আগে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ মে থেকে কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক ৩০ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যার ফলে কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফিরতে পেরেছে।

তবে কাফকো চালু হলেও একই এলাকায় অবস্থিত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এখনো বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সিইউএফএলও গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ডিএপিএফসিএল গত ১৮ এপ্রিল রাত থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কাঁচামাল অ্যামোনিয়ার সংকটের কারণে এই কারখানাটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বলেন, আমরা সাধারণত কাফকো ও সিইউএফএল থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করি। বর্তমানে একটি কারখানা চালু থাকলেও অন্যটি বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। সিইউএফএল চালু না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পক্ষে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিনটি কারখানা উৎপাদন ব্যবস্থায় একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে অ্যামোনিয়া সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি কারখানা বন্ধ থাকলে অন্যটির ওপরও প্রভাব পড়ে। ফলে একটি কারখানা চালু হলেও সামগ্রিক উৎপাদন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকতা ফিরছে না।

এদিকে গ্যাস সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। কাফকোর পূর্ণ উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে তার চেয়ে কম।