back to top

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ০৬:৩২
[photo_card_and_fontsize]

সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ আছর নিজ বাড়িতে মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মহাজনহাট কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মৃত্যুকালে মরহুম মোশাররফ হোসেন স্ত্রী ৩ ছেলে ১ মেয়ে নাতি নাতনি সহ রাজনৈতিক অঙ্গনের অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে মিরসরাইসহ চট্টগ্রামজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া লক্ষ্য করা গেছে।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৭বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার পক্ষে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে বহুবার হামলা, নির্যাতন ও জীবননাশের মুখোমুখি হন। মিরসরাইয়ের উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান স্মরণীয় ।

মিরসরায়ের বিভিন্ন সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর মৃত্যুতে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন। তারা জানান “মিরসরাই একজন অভিভাবকতুল্য রাজনীতিবিদকে হারালো। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”