ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প। ভাঙার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ (Memei) নামের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেটিকে চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন কর্পোরেশন।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী জানান, হংকং থেকে আমদানি করা জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। তবে ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। এর ফলে জাহাজটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনবিষয়ক তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক আগে ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছিল। একই সঙ্গে জাহাজটির মালিকানাধীন হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভার শাইনিং লিমিটেড এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারের তথ্য অনুযায়ী, মেমেই জাহাজটির ভাঙা মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি টাকার সমপরিমাণ। নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বিনিয়োগ এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এসএন কর্পোরেশনের শিপব্রেকিং ইয়ার্ড-১-এর ব্যবস্থাপক নাজমুল হোসেন খান বলেন, “আন্তর্জাতিক ও আইনি জটিলতার কারণে জাহাজটি সৈকতে ভেড়ানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এটি বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা জাহাজটি ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি।”
আন্তর্জাতিক সাময়িকী ট্রেড উইন্ডস এবং স্থানীয় শিপিং সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানির পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো স্ক্র্যাপ জাহাজ ইয়ার্ডে তুলতে না পারার ঘটনা বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে অত্যন্ত বিরল। এতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই বছর আগের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমদানি-পরবর্তী সময়ে জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা ফেরত পাঠানোর ঘটনা নজিরবিহীন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বাড়লে পুরোনো জাহাজ আমদানিতে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন, যা দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
