back to top

জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি লাখো মানুষ, আগ্রাবাদে পানির ঢেউয়ে স্থবির জনজীবন

৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিতে তলিয়ে চট্টগ্রাম: 

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৫৬
[photo_card_and_fontsize]

টানা ভারী বর্ষণে বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, হালিশহর, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্যবসা বানিজ্য অফিস পাড়া স্থবির হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে পানির ঢেউ। অনেক স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বহু দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। নিচু এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কোথাও কোথাও যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ।
ওসেন এইড সার্ভিসের পরিচালক এএইচ এম ফাঈমুল আলম বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী। অথচ প্রতি বর্ষায় আগ্রাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সেবামূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। হাজার হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প চলমান থাকলেও নগরবাসী এখনও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না। স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।”
কমফোর্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান  ব্যবসায়ী মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস আজ হাসপাতাল মালিকদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিলো। জলাবদ্ধতার কারণে বাতিল করা হয়েছে ।  মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে মানুষ বন্ধির মতো হয়ে যায়। নগরবাসী জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।  মানুষ এ অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়।

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান “দোকান খুলতেই দেখি ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, মালামালেরও ক্ষতি হচ্ছে।” চাকরিজীবী নাসরিন আক্তার বলেন, “অফিসে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।” রিকশাচালক আবদুল কাদের বলেন, “সড়কে এত পানি যে ঠিকমতো রিকশা চালানো যাচ্ছে না। সারাদিনে স্বাভাবিক আয়ও হয়নি।” শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি।” গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, “বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে ছোট শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে।”
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ভারী বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রামের একই চিত্র ফিরে আসে। ফলে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, বর্ষা মৌসুমের আগেই কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করা ।